''হিন্দু" ও ''হিন্দুস্তান" শব্দ দুটোর উৎস ও অর্থ সম্পর্কে অনেকেরই বিভ্রান্তি রয়েছে । কেউ কেউ দাবী করে এই দুটো শব্দ বিদেশী তথা ইংরেজদের দেওয়া । একথা সম্পূর্ণ মিথ্যা এই শব্দদুটো সম্পূর্ণ স্বদেশী।
বিষ্ণুপুরানে ভারতের ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে
'' উত্তরং যত সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্/ বর্ষং তদ্ ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততি।" অর্থাত যে ভূমি সমুদ্রের উত্তর দিকে এবং হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সেই দেশের নাম ভারত এবং সেখানে ভরতের বংশধর গন বাস করে ।
বৈদিক মন্ত্রেও ভারতের বর্ণনা পাওয়া যায় ।
''গঙ্গে চ যমুনেচৈব গোদাবরী সরস্বতী / নর্মদে সিন্ধু কাবেরি জলহস্মিন সন্নিধন কুরু।"
আবার সুপ্রাচীন বৃহস্পতি অগম যা শ্রুতি শ্রেণীয় , ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলেছে
'' হিমালয়ং সমারভ্য যাবদিন্দু সরোবরম্ /ত্বং দেব নির্মিতং দেশং হিন্দুস্তানং প্রচক্ষতে ।"
অর্থাৎ হিমালয় থেকে ইন্দু সরোবর (ভারত মহাসাগর ) অবধি দেব নির্মিত দেশ হিন্দুস্তান নামে পরিচিত ।
তাহলে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে ভারতেরই অপর নাম হিন্দুস্তান যা কোন বিদেশীদের দেওয়া নাম নয় ।
অনুরূপভাবে "হিন্দু"
শব্দটিও সম্পূর্ণ স্বদেশী । ''হিন্দু" কথাটা এসেছে হিমালয়ের ''হি" ও ইন্দু সরোবরের ''ইন্দু" থেকে । এই শব্দে আমাদের মাতৃ ভূমির সম্পূর্ণ বর্ণনা এসে যায় । অন্য দিকে হিন্দুস্তানে বসবাসকারী সকল নাগরিককে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে । ঠিক যেমন চীন, জাপান, নেপাল এর অধিবাসীদের যথাক্রমে চাইনিজ, জাপানিজ ,নেপালিজ বলা হয়ে থাকে । কিন্তু কালের বিবর্তনে এর অর্থেরও পরিবর্তন হয়েছে ।যাই হোক, হিন্দু শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় পারসীক ধর্মগ্রন্থ '' জেন্দাবেস্তা" তে(6th c.e.)। এমনকি পারস্য সম্রাট দারিয়ুসের শিলা লীপিতে সিন্ধুপারের অধিবাসী দের হিন্দু বলে চিহ্নিত করা হয়েছে । প্রখ্যাত বুদ্ধিষ্ট স্কলার Xuanzang (7 th c.e)এর বিবরনে হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় । আলবিরুনির লেখা '' Tarikh Al hind" ( 11th century ) , আবদুল মালিক ইসামীর লেখা '' ''FutuhusSalatin"(1350) হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় । চাঁদ বরদই এর লেখা ''Prithviraj Raso "(1192) এই হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়।এছাড়া কলহ্বনের ''রাজতরঙিনী" , বিদ্যাপতির কবিতা '' Kirtilata" , চৈতন্য চরিতামৃত, চৈতন ভাগবতে "হিন্দু" শব্দটির যথেষ্ট ব্যবহার পাওয়া যায়। রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের কথা ও রচনার ক্ষেত্রেও হিন্দু শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়।যদিও এক্ষেত্রে হিন্দু বলতে সনাতন ধর্মাবলম্বি দের বোঝানো হয়েছে । কিন্ত হিন্দু শব্দটির ব্যপকতর অর্থ আছে ।
বীর সাভারকার তার '' হিন্দুত্ব গ্রন্থে বলেছেন যে হিন্দুত্ব কোন শব্দ বিশেষ নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ ইতিহাস । তিনি আরও বলেন যে হিন্দুত্ব কয়েকটি সিদ্ধান্তের উপর দাঁড়িয়েছে --সহিষ্ণুতা, সম্মান, সমন্বয় , স্বাধীনতার ও সংবাদ । যাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তগুলি বর্তমান তাদেরই হিন্দু বলে । সম্প্রতি হিন্দুত্বের ব্যাখ্য দিতে গিয়ে মহামান্য শীর্ষ আদালত বলে যে হিন্দু কোন ধর্ম নয়, এটি হল একটি জীবনশৈলী (Way of Life) । তাইএই জীবনেশৈলীর অধিকারীরাও
হল হিন্দু। আরবী ভারতের মুসলিমদের হিন্দু বলে ডাকে । যদিও বর্তমানে হিন্দু শব্দটিকে সনাতন ধর্মের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ।
এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক।
অখন্ড হিন্দু রাষ্ট্রের জয় হোক সর্বদা।
অখন্ড ভারতের জয় হোক সর্বদা।
সংগৃহীত
বিষ্ণুপুরানে ভারতের ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে
'' উত্তরং যত সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্/ বর্ষং তদ্ ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততি।" অর্থাত যে ভূমি সমুদ্রের উত্তর দিকে এবং হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সেই দেশের নাম ভারত এবং সেখানে ভরতের বংশধর গন বাস করে ।
বৈদিক মন্ত্রেও ভারতের বর্ণনা পাওয়া যায় ।
''গঙ্গে চ যমুনেচৈব গোদাবরী সরস্বতী / নর্মদে সিন্ধু কাবেরি জলহস্মিন সন্নিধন কুরু।"
আবার সুপ্রাচীন বৃহস্পতি অগম যা শ্রুতি শ্রেণীয় , ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলেছে
'' হিমালয়ং সমারভ্য যাবদিন্দু সরোবরম্ /ত্বং দেব নির্মিতং দেশং হিন্দুস্তানং প্রচক্ষতে ।"
অর্থাৎ হিমালয় থেকে ইন্দু সরোবর (ভারত মহাসাগর ) অবধি দেব নির্মিত দেশ হিন্দুস্তান নামে পরিচিত ।
তাহলে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে ভারতেরই অপর নাম হিন্দুস্তান যা কোন বিদেশীদের দেওয়া নাম নয় ।
অনুরূপভাবে "হিন্দু"
শব্দটিও সম্পূর্ণ স্বদেশী । ''হিন্দু" কথাটা এসেছে হিমালয়ের ''হি" ও ইন্দু সরোবরের ''ইন্দু" থেকে । এই শব্দে আমাদের মাতৃ ভূমির সম্পূর্ণ বর্ণনা এসে যায় । অন্য দিকে হিন্দুস্তানে বসবাসকারী সকল নাগরিককে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে । ঠিক যেমন চীন, জাপান, নেপাল এর অধিবাসীদের যথাক্রমে চাইনিজ, জাপানিজ ,নেপালিজ বলা হয়ে থাকে । কিন্তু কালের বিবর্তনে এর অর্থেরও পরিবর্তন হয়েছে ।যাই হোক, হিন্দু শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় পারসীক ধর্মগ্রন্থ '' জেন্দাবেস্তা" তে(6th c.e.)। এমনকি পারস্য সম্রাট দারিয়ুসের শিলা লীপিতে সিন্ধুপারের অধিবাসী দের হিন্দু বলে চিহ্নিত করা হয়েছে । প্রখ্যাত বুদ্ধিষ্ট স্কলার Xuanzang (7 th c.e)এর বিবরনে হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় । আলবিরুনির লেখা '' Tarikh Al hind" ( 11th century ) , আবদুল মালিক ইসামীর লেখা '' ''FutuhusSalatin"(1350) হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় । চাঁদ বরদই এর লেখা ''Prithviraj Raso "(1192) এই হিন্দু শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়।এছাড়া কলহ্বনের ''রাজতরঙিনী" , বিদ্যাপতির কবিতা '' Kirtilata" , চৈতন্য চরিতামৃত, চৈতন ভাগবতে "হিন্দু" শব্দটির যথেষ্ট ব্যবহার পাওয়া যায়। রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের কথা ও রচনার ক্ষেত্রেও হিন্দু শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়।যদিও এক্ষেত্রে হিন্দু বলতে সনাতন ধর্মাবলম্বি দের বোঝানো হয়েছে । কিন্ত হিন্দু শব্দটির ব্যপকতর অর্থ আছে ।
বীর সাভারকার তার '' হিন্দুত্ব গ্রন্থে বলেছেন যে হিন্দুত্ব কোন শব্দ বিশেষ নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ ইতিহাস । তিনি আরও বলেন যে হিন্দুত্ব কয়েকটি সিদ্ধান্তের উপর দাঁড়িয়েছে --সহিষ্ণুতা, সম্মান, সমন্বয় , স্বাধীনতার ও সংবাদ । যাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তগুলি বর্তমান তাদেরই হিন্দু বলে । সম্প্রতি হিন্দুত্বের ব্যাখ্য দিতে গিয়ে মহামান্য শীর্ষ আদালত বলে যে হিন্দু কোন ধর্ম নয়, এটি হল একটি জীবনশৈলী (Way of Life) । তাইএই জীবনেশৈলীর অধিকারীরাও
হল হিন্দু। আরবী ভারতের মুসলিমদের হিন্দু বলে ডাকে । যদিও বর্তমানে হিন্দু শব্দটিকে সনাতন ধর্মের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ।
এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক।
অখন্ড হিন্দু রাষ্ট্রের জয় হোক সর্বদা।
অখন্ড ভারতের জয় হোক সর্বদা।
সংগৃহীত
